আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ জয়নুলের বেড়ে ওঠা। এটি শিল্পী জয়নুল আবেদিন এর জীবনী গ্রন্থমালা। জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধি লাভ করেন।

জয়নুলের বেড়ে ওঠা । শিল্পী জয়নুল আবেদিন
জয়নুল ছিলেন প্রকৃতির সন্তান । প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে তিনি বেড়ে ওঠেন। তাই আমরা দেখি তিনি আজীবন প্রকৃতির কাছাকাছিই ছিলেন। তার ছবির প্রধান উপজীব্য ছিল প্রকৃতি । মানুষকেও তিনি প্রকৃতির অংশ হিসেবেই দেখেছেন ।
জয়নুলের জন্মদিন ২৯ ডিসেম্বর। ১৯১৪ সালের এই দিনে তিনি সবুজ ছায়াঘেরা কিশোরগঞ্জ শহরে জন্মেছিলেন বাবা তমিজউদ্দীন, মা জয়নাবুন্নেসা। জয়নুলের বাবা চাকরি সূত্রে তখন এখানে। অবস্থান করেছিলেন। জয়নুল তাদের প্রথম সন্তান । এই সন্তান যেন আলো হয়ে আসে তাদের ঘরে। বড় আদরে বেড়ে উঠতে থাকেন শিশু জয়নুল
মা-বাবার এই প্রিয় ছেলেটির একটি আদুরে নাম ছিল । বড়রা তাকে আদর করে টুনু ডাকতো। পাড়া-প্রতিবেশী এই নামে ছেলেটিকে কাছে টানতো। মা-বাবার মতো সে অনেকের স্নেহ-মমতায় বড় হতে থাকে। সবার ঘরের দরজা ছিল টুনুর জন্য খোলা ।

কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করলেও জয়নুলদের বাড়ি কিন্তু এখানে নয়। তার পিতার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের কাছেই উত্তর প্রান্তে কাঁচিঝুলি গ্রামে। তার পূর্বপুরুষদের বাস ছিল পাবনায়। কয়েক পুরুষ আগে তারা ময়মনসিংহ চলে আসেন । প্রথমে দরিরামপুর, তারপর মুক্তাগাছা হয়ে কাঁচিঝুলিতে। আর মায়ের বাড়ি ছিল ময়মনসিংহ আকৃয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টারে। জয়নুল বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার শৈশব কাটিয়েছেন। এতে শৈশবেই জয়নুল পরিবেশের নানা রকমফেরের সাথে পরিচিত হতে পারেন। আর স্থানবদলের এই সুযোগটি পেয়েছিলেন বাবার চাকরির ধরনের সুবাদে ।
জয়নুলের বাবা ছিলেন পুলিশের এএসআই। ফলে কিশোরগঞ্জে জন্ম নেয়া জয়নুল তার বাল্য ও কৈশোরকাল অতিক্রম করতে আরও তিনটি থানা সদর— কেন্দুয়া, মিঠামইন ও শেরপুরে কাটাতে হয় । জয়নুলের জন্য এ ছিল অনন্য এক অভিজ্ঞতা। পল্লীবাংলার রূপের বাহার আর সাধারণ মানুষের অন্তরাত্মার স্বরূপের খোঁজটি পেয়ে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখতে পাই, ঘুরে বেড়ানো জয়নুলের জীবনের অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। আজীবন তিনি। পরিভ্রমণের মধ্যেই ছিলেন । ফলে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি ছিল বহুমাত্রিক। তবে প্রথম জীবনের স্থানবদলের পরিসমাপ্তি ঘটে ময়মনসিংহ শহরে। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বাবা আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টারে নতুন ঘর বাঁধেন, তারা পুরো পরিবারে এখানে থিতু হন।

জয়নুলরা ছিলেন মোট নয় ভাই-বোন । সাত ভাই দুই বোন । রোগে মারা গেল বেশ কয়েকজন। বেঁচে রইলো চার ভাই এক বোন। ভাইবোনদের প্রতি জয়নুলের ছিল আজীবন দরদ। তিনি ভাইবোনদের প্রতি যে অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব পালন করেছেন তার নমুনা সত্যিই বিরল।
বিভিন্ন জায়গায় বসবাসের পর জয়নুল প্রকৃতির নানারূপের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া করে নিতে পারেন। প্রকৃতির নানা খেলা, রূপ, বর্ণ তাকে রোমাঞ্চিত করে । আর নানা পেশার মানুষ, তাদের অদ্ভুত কাজকর্ম, স্বভাব-চরিত্র তাকে অবাক করে । তিনি অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে সবকিছু দেখেন। আর মনে নানা কৌতূহল জাগে। এসব কৌতূহল তাকে আরও প্রকৃতিসংলগ্ন করে।
আরও দেখুনঃ
