আজকের আলোচনার বিষয়ঃ বাংলাদেশের ১০ চিত্রশিল্পী সূচিপত্র
বাংলাদেশের ১০ চিত্রশিল্পী সূচিপত্র
বাংলাদেশের ১০ চিত্রশিল্পী গ্রন্থে কেবল দশ জন শিল্পীর কাজ সম্পর্কে এককভাবে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই বলে যাদের এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি, শিল্পী হিসেবে তাদের গুরুত্ব কিন্তু কম নয় এবং তাদের অবদানকে অবশ্যই অস্বীকার করা যায় না। তবে প্রকাশনা ও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে একই গ্রন্থের মধ্যে সকল শিল্পীর কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা সম্ভব হলো না।
জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধি লাভ করেন।
কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮) ‘পটুয়া’ নামে পরিচিত ছিল, যা লোকশিল্পীদের সাথে জড়িত একটি শব্দ। এই শিরোনাম তাঁকে দেওয়া হয়েছিল তাঁর চিত্রশৈলীর স্টাইলের কারণে, যা পৃথিবীর কাছে যেতে পারে।
সফিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী। তাকে বাংলাদেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক বলা হয়। তবে ছাপচিত্রের পাশাপাশি তিনি জলরং এবং তেল রং-এর কাজেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি সাত দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পচর্চায় দেশের চারুকলার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন।
শেখ মোহাম্মদ সুলতান যিনি এস এম সুলতান নামে সমধিক পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশি প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।তার জীবনের মূল সুর-ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন, কৃষক এবং কৃষিকাজের মধ্যে। আবহমান বাংলার সেই ইতিহাস-ঐতিহ্য, দ্রোহ-প্রতিবাদ, বিপ্লব-সংগ্রাম এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার ইতিহাস তার শিল্পকর্মকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে।
আমিনুল ইসলাম ছিলেন একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী। তিনি ঢাকা আর্ট কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র এবং প্রথম সরকারি গেজেটভুক্ত শিক্ষক। চিত্রকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৮১ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৮ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
হামিদুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনিই ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিমাখা শহীদ মিনারের নকশা করেন। ১৯৮০ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
মোহাম্মদ কিবরিয়া হলেন বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ শিল্পী। তিনি মাটি, মা আর মানুষের অসাধারণ সব ছবি এঁকে গেছেন সারাটা জীবন। ২০০৮ সালে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে মনোনীত করা হয়।
মুর্তজা বশীর একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী, কার্টুনিস্ট এবং ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের আগস্টে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে। চট্টগ্রামে তিনি ১৯৭৬ সালের মার্চের মধ্যে ‘এপিটাফ’ সিরিজে আরো ২০টি ছবি আকেঁন তিনি।
আবদুর রাজ্জাক ছিলেন একজন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর। তিনি তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজের (বর্তমান চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার নেতৃত্বেই চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভাস্কর্য বিভাগ চালু হয়। তার আঁকা উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম হল ‘টেকনাফ’, ‘সুন্দরবন-১’, ‘রিভার-১’। তিনি জাগ্রত চৌরঙ্গীর ভাস্কর।
কালিদাস কর্মকার বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী যিনি নিরীক্ষাধর্মীতার জন্য বিখ্যাত। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত ফরিদপুরে তাঁর জন্ম হয়। শৈশবেই তিনি আঁকতে শুরু করেন। স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে তিনি ১৯৬৩-৬৪ খ্রিস্টাব্দে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্রাফট থেকে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইয়োরোপীয় আধুনিকতার ঘরানার শিল্পী।
সূচিপত্র
- চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিন
- শিল্পী কামরুল হাসান
- শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ
- শিল্পী এস এম সুলতান
- শিল্পী আমিনুল ইসলাম
- শিল্পী হামিদুর রহমান
- শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া
- শিল্পী মুর্তজা বশীর
- শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক
- শিল্পী কালিদাস কর্মকার

