আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ লোকশিল্প জাদুঘর । এটি শিল্পী জয়নুল আবেদিন এর জীবনী গ্রন্থমালার অন্তর্গত।জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধি লাভ করেন।
লোকশিল্প জাদুঘর । শিল্পী জয়নুল আবেদিন
লোকশিল্পের প্রতি জয়নুলের আগ্রহ ছিল প্রচুর । তিনি নিজেই ছিলেন একজন লোকশিল্প সংগ্রাহক। নিজের প্রতিষ্ঠিত চারুকলা কলেজে তিনি লোকশিল্প মেলা করেছিলেন। জয়নুল আবেদিন অনুভব করছিলেন বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য এ লোকশিল্পকে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না রাখলে তা ক্রমে বিলীন হয়ে যাবে। লোকশিল্পকে বাঁচাতে হবে। এ ভাবনা থেকে তিনি লোক শিল্প জাদুঘর স্থাপনে উদ্যোগী হলেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তিনি তার উদ্যোগের সপক্ষে যুক্তি দিলেন এবং সফল হলেন ।
লোক শিল্প জাদুঘর স্থাপনের জন্য তিনি বেছে নিলেন ঢাকা থেকে একটু দূরে ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব লোকশিল্পের নিদর্শন রয়েছে তা সংগ্রহ করে এ জাদুঘরে উপস্থাপন করা হবে ।। এখানে এক সময় বিখ্যাত মসলিন তৈরি হতো। এখনো জামদানি ও অন্যান্য তাঁতের শাড়ি তৈরি হচ্ছে। তিনি তার উদ্যোগে লোকশিল্প ও কারুশিল্পের কারিগরদের পরিবার-পরিজন থাকার ব্যবস্থাও রেখেছিলেন জাদুঘরকে কেন্দ্র করে।
স্বপ্ন দেখেছিলেন এভাবে জেগে উঠবে হারিয়ে যাওয়া লোক মসলিনের ঐতিহ্যবাহী সোনারগা। দেশের নতুন প্রজন্ম ও বিদেশিরা এখানে এসে বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ পরিচয় পাবে। একসময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে সোনারগাঁ । এ লোকশিল্প পল্লী হতে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানিও হতে পারে । অতীতে যেমন সাগর পাড়ি দিয়ে চলে যেত দূরদূরান্তে ।
শেষ জীবনে ক্যান্সারে আক্রান্ত শিল্পী পুরোদমে লোক শিল্প জাদুঘরের কাজ বাস্তবায়নে নিয়োজিত হয়ে পড়েন। এরই মাঝে খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যান।
আরও দেখুনঃ

