লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন

আজকের আলোচনার বিষয়ঃ লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে। এটি শিল্পী জয়নুল আবেদিন এর জীবনী গ্রন্থমালার অন্তর্গত।জয়নুল আবেদিন  বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধি লাভ করেন।

 

লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন

 

লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন

জয়নুল বীরভূমের দুমকা এলাকার অনেক ছবি এঁকেছেন । সাঁওতাল অধ্যুষিত এই পরগনায় আঁকা ছবিগুলো জয়নুলের ছবি-আঁকা জীবনের একটি পর্ব নির্দেশ করে । প্রাথমিক পর্বে আঁকা এসব ছবির মাধ্যমে জয়নুলের শিল্পবোধটি পূর্ণতার একটি অবয়ব পায় । মানুষ ও প্রকৃতি নিয়ে এখানে নানাভাবে নিরীক্ষা করেছেন । নিজের দৃষ্টির বহুকৌণিকতা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন ।

 

লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন

 

মানুষের মধ্যকার সৌন্দর্য অনুসন্ধানে গভীরে প্রবেশ করেন । জীবনকে দেখার অভিজ্ঞতাও সমৃদ্ধ করেন । নিম্নবর্গীয় সাঁওতালদের মধ্যে তিনি আদিম অকৃত্রিম সৌন্দর্য আবিষ্কার করেন । ময়ূরাক্ষী নদী তার দেখার চোখকে আরো বিস্তৃত করে। বীরভূমের রুক্ষ ভূমিতে তিনি কোমল একটি অনুভবও খুঁজে পান। যে অনুভব তার হয়ে থাকে ব্রহ্মপুত্র নদের পারে ।

ময়মনসিংহ ও দুমকা ভূ-বৈচিত্র্যে ছিল অনেকটা বিপরীতমুখী । পূর্ববঙ্গে প্রকৃতি কোমল, নদ নদীগুলো প্রশস্ত, জমিগুলো পলিতে উর্বরা । অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে শীর্ণকায় নদী, রুক্ষ ভূমি, কঠিন প্রকৃতি । দুমকার প্রকৃতি জয়নুলের অভিজ্ঞতায় নতুন ৷ বিশেষ করে সাঁওতালদের যাপিত জীবনে তিনি শিল্পসৃষ্টির আনন্দ খুঁজে পান । মহুয়া ফুলের মাদকতা আর ঢোল ও মাদলের তাললয়ে সাঁওতালদের নাচ-গান তাকে আপ্লুত করে। বাঁশির সুর-মূর্ছনায় তন্ময় হয়ে ওঠেন ।

 

লাল মাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়ার দেশে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন

 

লালমাটি, শাল পিয়াল আর মহুয়া গাছের দেশকে তিনি আপন করে নেন । নতুন জীবন দেখার অভিজ্ঞতাসমূহ ছাত্র জয়নুল রঙ-তুলিতে বাঙ্ময় করে তোলেন । এখানে তিনি প্রচুর স্টাডি করেন । মানুষ, প্রকৃতি ও ফিগর ছিল তার আঁকার বিষয় ।

আরও দেখুনঃ

Leave a comment