আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়ঃ মুক্তি সংগ্রামে । এটি শিল্পী জয়নুল আবেদিন এর জীবনী গ্রন্থমালার অন্তর্গত।জয়নুল আবেদিন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য উপাধি লাভ করেন।
জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলো হল: ১৯৫৭-এ নৌকা, ১৯৫৯-এ সংগ্রাম, ১৯৭১-এ বীর মুক্তিযোদ্ধা, ম্যাডোনা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।তার দীর্ঘ দুটি স্ক্রল ১৯৬৯-এ অঙ্কিত ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭৪-এ অঙ্কিত ‘মনপুরা-৭০’ জননন্দিত দুটি শিল্পকর্ম। তিনি চিত্রাঙ্কনের চেয়ে চিত্রশিক্ষা প্রসারের ওপর অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছেন। অনুমান করা হয় তার চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।

মুক্তি সংগ্রামে । শিল্পী জয়নুল আবেদিন
জয়নুল আজীবন ছিলেন জীবন সংগ্রামী। তেমনি মুক্তি সংগ্রামী। ষাটের দশক থেকেই বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই বাঙালি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য রোধ ও সমানাধিকারের জন্য আন্দোলন করতে থাকে। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে জয়নুল সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বাঁচার দাবি ৬ দফা ঘোষণা করা হয় । এরই অর্থ ধরে ছাত্রসমাজ ঘোষণা করে ১১ দফা। ছাত্র-জনতার এই আন্দোলন ক্রমশ স্বাধিকার আন্দোলনের রূপ নেয়।

মুক্তি সংগ্রামের এই কায়দায় জয়নুল আবেদিন সহকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন। তার দৃষ্টিতে সংগ্রামী ভাগ্য স্থান পায়। তারই প্রেরণায় চারুকলার শিল্পীরা স্বাধীনতার প্রত্যাশায় উৎসাহ ও উদ্দীপনামূলক ছবি আঁকেন । পোস্টার ও ফেস্টুনে রঙের তেজে ছড়িয়ে দেন মুক্তির গান । ১২ মার্চ, ১৯৭১ সালে জয়নুলের নেতৃত্বে চারু ও কারুশিল্পীরা স্বাধীনতার জন্য বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ সালে শিল্পী ময়মনসিংহে মওলানা ভাসানীর উপস্থিতিতে এক সভায় পাকিস্তান সরকারের দেয়া খেতাব প্রত্যাখ্যান করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে শিল্পী আরব লীগের আমন্ত্রণে ফিলিস্তিন যান। প্রত্যক্ষ করেন নিজ ভূমি উদ্ধারে ফিলিস্তিনিদের যুদ্ধ । গেরিলা ক্যাম্প ও যুদ্ধক্ষেত্রের প্রায় ৩০০ ছবি ও স্কেচ আঁকেন তখন তিনি। আগ্রাসী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের এ যুদ্ধ জয়নুলকে দারুণ প্রেরণা জোগায়। আপন জাতির সংগ্রামে তিনি তা নিয়োজিত করেন।
